সামাজিক সুসম্পর্ক ও ইসলামের মানবিক মূল্যবোধ

 পারস্পরিক হকের গুরুত্ব:সলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান, যেখানে ইবাদতের পাশাপাশি 'হক্কুল ইবাদ' বা বান্দার হকের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একজন প্রকৃত মুসলমান কেবল সেই ব্যক্তি নয় যে অনেক নফল ইবাদত করে, বরং সেই ব্যক্তি যার মুখ এবং হাত থেকে অন্য মানুষ নিরাপদ থাকে। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, "তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না তোমরা একে অপরকে ভালোবাসবে।" সামাজিক শান্তি বজায় রাখার জন্য পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব এবং সহমর্মিতা অপরিহার্য।

পরিবার ও প্রতিবেশীর অধিকার: ইসলামের দৃষ্টিতে উত্তম ব্যক্তি সেই, যে তার পরিবারের কাছে উত্তম। মা-বাবার সেবা করা, স্ত্রীর সাথে কোমল ব্যবহার করা এবং সন্তানদের দ্বীনি শিক্ষায় বড় করা প্রতিটি মুসলিম পুরুষের দায়িত্ব। একইভাবে প্রতিবেশীর হকের ব্যাপারেও কড়া নির্দেশনা রয়েছে। যদি কোনো ব্যক্তি নিজে তৃপ্তিসহকারে খেয়ে ঘুমায় অথচ তার প্রতিবেশী অভুক্ত থাকে, তবে সে প্রকৃত মুমিন হতে পারে না। প্রতিবেশীর ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে তার বিপদে এগিয়ে আসা ইসলামের মৌলিক শিক্ষা।

পরনিন্দা ও হিংসা পরিহার: সামাজিক সুসম্পর্ক নষ্ট হওয়ার প্রধান দুটি কারণ হলো গীবত (পরনিন্দা) ও হিংসা। পবিত্র কুরআনে গীবত করাকে মৃত ভাইয়ের মাংস খাওয়ার সাথে তুলনা করা হয়েছে। আজকের যুগে সোশ্যাল মিডিয়ায় আমরা খুব সহজেই অন্যের সমালোচনা করি, যা আমাদের আমলনামাকে শূন্য করে দেয়। মুমিনের বৈশিষ্ট্য হলো সে অন্যের দোষ গোপন রাখবে এবং নিজের সংশোধন নিয়ে ব্যস্ত থাকবে। হিংসা মানুষের নেক আমলগুলোকে সেভাবে জ্বালিয়ে দেয়, যেভাবে আগুন শুকনো কাঠকে পুড়িয়ে ছাই করে দেয়।

ক্ষমা ও উদারতার সংস্কৃতি: ইসলাম আমাদের শিখিয়েছে প্রতিশোধ নেওয়ার চেয়ে ক্ষমা করা অনেক বড় গুণ। যারা অন্যকে ক্ষমা করে, আল্লাহ তায়ালা তাদের সম্মান ও মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন। সমাজে একে অপরের ছোটখাটো ভুলগুলো এড়িয়ে চলা এবং উদার মানসিকতা দেখানোই হলো সুন্নাহ। যখন আমরা অন্যের প্রতি দয়ালু হবো, তখন আসমানের মালিক আমাদের প্রতি দয়ালু হবেন। এই ভ্রাতৃত্ববোধই একটি আদর্শ সমাজ গড়ে তুলতে পারে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url