হারিয়ে যাওয়া প্রশান্তির খোঁজে: ইসলামের পথে ফিরে আসার গল্প।

 

ইসলামের আলোকে সফল জীবন ও পরকালের পাথেয়

মানুষের জীবন এক বহমান নদীর মতো। এই জীবন নদীর প্রতিটি বাঁকে যেমন আনন্দ আছে, তেমনি আছে দুঃখ এবং পরীক্ষা। বর্তমান আধুনিক বিশ্বে আমরা প্রযুক্তির উৎকর্ষে নিজেদের এতটাই জড়িয়ে ফেলেছি যে, আমাদের জীবনের আসল উদ্দেশ্য—অর্থাৎ মহান আল্লাহর ইবাদত এবং পরকালের প্রস্তুতি—ক্রমেই গৌণ হয়ে যাচ্ছে। আজকের এই আলোচনায় আমরা জানব কীভাবে ইসলামের পথে চলে একটি শান্তিপূর্ণ ও সফল জীবন অতিবাহিত করা যায়।

১. জীবনের উদ্দেশ্য অনুধাবন

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে ঘোষণা করেছেন, "আমি জ্বিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি।" (সূরা আয-যারিয়াত: ৫৬)। আমরা যদি এই একটি আয়াত গভীরভাবে উপলব্ধি করি, তবে আমাদের জীবনের লক্ষ্য বদলে যাবে। আমাদের ক্যারিয়ার, অর্থ উপার্জন, পরিবার—সবকিছুই এই ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে যদি আমাদের নিয়ত (উদ্দেশ্য) থাকে আল্লাহকে সন্তুষ্ট করা।

২. অন্তরের প্রশান্তি ও জিকির

আজকের পৃথিবীতে ডিপ্রেশন বা মানসিক অস্থিরতা একটি মহামারি হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানুষ শান্তির খোঁজে বিনোদন, ভ্রমণ বা অর্থের পেছনে ছুটছে, কিন্তু শান্তি যেন সোনার হরিণ। অথচ ইসলাম আমাদের শেখায়, আসল শান্তি আত্মার। আল্লাহ বলেন, "জেনে রেখো, কেবল আল্লাহর স্মরণেই অন্তরসমূহ প্রশান্ত হয়।" যখন একজন মুমিন সেজদায় লুটিয়ে পড়ে আল্লাহর কাছে নিজের সবটুকু দুঃখ নিবেদন করে, তখন সে যে অলৌকিক প্রশান্তি পায়, তা পৃথিবীর কোনো দামি বস্তুর বিনিময়ে পাওয়া সম্ভব নয়।

৩. নামায: মুমিনের মিরাজ

নামায কেবল পাঁচটি সময়ের শারীরিক কসরত নয়; এটি স্রষ্টার সাথে সৃষ্টির সরাসরি কথোপকথন। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কিয়ামতের ময়দানে সর্বপ্রথম সালাতের (নামাযের) হিসাব নেওয়া হবে। নামায আমাদের অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে। আপনার রিলস বা ভিডিওর মাধ্যমে যদি একজন মানুষও নামাযে উদ্বুদ্ধ হয়, তবে সেটি হবে আপনার জন্য সদকায়ে জারিয়া।

৪. তরুণ সমাজ ও আধুনিকতার চ্যালেঞ্জ

বর্তমান সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে তরুণ প্রজন্ম সবচেয়ে বেশি বিভ্রান্তির সম্মুখীন। একদিকে নগ্নতা ও অশ্লীলতা, অন্যদিকে পশ্চিমা সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণ। ইসলাম আধুনিকতার বিরোধী নয়, কিন্তু ইসলাম এমন আধুনিকতার বিরোধী যা মানুষকে পশুর স্তরে নামিয়ে আনে। ইসলামের পর্দা প্রথা এবং হালাল-হারামের বিধান মূলত মানুষের সম্মান রক্ষা করার জন্য। আধুনিক হতে গিয়ে আমরা যেন আমাদের আত্মপরিচয় হারিয়ে না ফেলি।

৫. উত্তম চরিত্র ও আখলাক

ইসলাম কেবল নামায-রোজার নাম নয়, বরং সুন্দর আচরণের নামও ইসলাম। আমাদের প্রিয় নবী (সা.) ছিলেন সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী। প্রতিবেশীর হক আদায় করা, বাবা-মায়ের সাথে বিনয়ী হওয়া এবং মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানো ইমানের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমাদের সমাজ আজ কলুষিত কারণ আমরা আখলাক বা নৈতিকতা থেকে দূরে সরে গিয়েছি।

৬. মৃত্যু এবং অনন্তকালের জীবন

আমরা ভুলে যাই যে, এই পৃথিবী চিরস্থায়ী নয়। প্রতিটি নিঃশ্বাস আমাদের কবরের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। মৃত্যু কোনো কিছুর শেষ নয়, বরং এটি এক অনন্ত জীবনের শুরু। পরকালের সেই কঠিন দিনে আমাদের সম্পদ বা পদবী কাজে আসবে না; কাজে আসবে কেবল আমাদের নেক আমল। তাই প্রতিদিন ঘুমানোর আগে একবার অন্তত ভাবা উচিত—যদি আজই আমার শেষ দিন হয়, তবে আমি কি আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোর জন্য প্রস্তুত?

৭. তওবা ও ক্ষমার দুয়ার

আল্লাহ গাফুরুর রাহিম। মানুষ হিসেবে আমরা ভুল করি, পাপ করি। কিন্তু ইসলামের সবচেয়ে সুন্দর দিক হলো তওবা। আপনি যত বড় গুনাহই করুন না কেন, যদি লজ্জিত হয়ে আল্লাহর কাছে ফিরে আসেন, তিনি আপনাকে ক্ষমা করতে ভালোবাসেন। নিরাশ হওয়া শয়তানের কাজ, আর আল্লাহর রহমতের আশা করা মুমিনের কাজ।

উপসংহার

পরিশেষে, ইসলাম আমাদের জীবনকে শৃঙ্খলিত করে না, বরং মুক্তি দেয়। এটি এমন এক পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা যা আমাদের ইহকালীন শান্তি এবং পরকালীন মুক্তির নিশ্চয়তা দেয়। আমাদের উচিত প্রতিদিন অন্তত কিছু সময় দ্বীনি জ্ঞান অর্জন করা এবং ছোট ছোট আমলের মাধ্যমে আল্লাহর নিকটবর্তী হওয়া।

হে আল্লাহ! আমাদের সবাইকে হিদায়াত দান করুন এবং আমাদের জীবনকে দ্বীনের আলোয় আলোকিত করুন। আমীন

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url